Blogger Tips and TricksLatest Tips And TricksBlogger Tricks

free blog/web site

ভুক্তোভোগীদের সাধারণ ডায়েরি’তে তদন্ত হয় না!

No Comments
ভুক্তোভোগীদের সাধারণ ডায়েরি’তে তদন্ত হয় না!

ভুক্তোভোগীদের সাধারণ ডায়েরি’তে তদন্ত হয় না!

বিশ্ববার্তা ডেক্স: নগরবাসীকে কাঙিক্ষত সেবা ও নিরপাত্তার জন্য ৪৯টি থানার কার্যক্রম পরিচালনা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। আর এসব থানায় প্রতিদিন মামলা দায়েরসহ শত শত  অভিযোগ জমা পড়ছে, পাশাপাশি জীবনের নিরাপত্তসহ বিভিন্ন অভিযোগে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করছেন ভুক্তোভোগীরা। 

 প্রতিদিন ৪৯ টি থানায় গড়ে ৪০টি করে জিডি জমা পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, অধিকাংশই জিডির তদন্ত হয় না। তবে পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন প্রথমে গুরুত্বপূর্ণ জিডিগুলোর তদন্ত হয়। এর পর বাকি জিডির তদন্ত করা হয়।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার মো. মনিরুল ইসলাম বিশ্ববার্তাকে বলেন, থানায় দায়ের করা মামলাসহ সব জিডির তদন্ত করা হয়। প্রথমে গুরুত্বপূর্ণ জিডিগুলো তদন্ত হয়। এর পর বাকি জিডির তদন্ত করা হয়।
তিনি আরও বলেন, যারা জিডি করেন, তাদের অনেকেই তদন্ত কর্মকর্তাকে সহায়তা করেন না। এ কারণে বলা হয়ে থাকে, অনেক জিডির তদন্ত হয় না।
সূত্র জানায়, রাজধানীর বিভিন্ন থানায় দায়ের করা জিডিগুলো হত্যার হুমকি, শ্লীলতাহানি, ছিনতাই, মোবাইল চুরি, আইপ্যাড চুরি, ল্যাপটপ চুরি, মোটরসাইকেল চুরি, সার্টিফিকেট হারানো, চাঁদাবাজির হুমকিসহ বিভিন্ন  যানবাহন হারানো কিংবা চুরির ইত্যাদি অভিযোগে জিডি করা হয়।
প্রতিদিন ডিএমপির ৪৯ টি থানায় গড়ে ৪০টি জিডি করা করা হচ্ছে। সে হিসেবে ৪৯ টি থানায় প্রতিদিন ১৯৬০টি জিডি করা হচ্ছে। মাসে ৫৮ হাজার ৮’শত জিডি করা হচ্ছে। আর বছরে প্রায় ৭ লাখ ৫৬ হাজার জিডি  করা   হয়।
কিন্তু সাফাই গাইলেও পুলিশের দক্ষতা ও পর্যাপ্ত জনববল না থাকার কারণে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ডিডি ছাড়া অধিকাংশ ফাইলবন্দি থাকে। এছাড়া গুরুত্ব অনুসারে জিডির কোনো ক্যাটালগও নেই ডিএমপি কিংবা পুলিশ সদর দফতরেও। শুধু তাই নয়, কোন কোন জিডির দ্রুতগতিতে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করে নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন সে সম্পর্কেও সুস্পষ্ট কোনো নির্দেশনা নেই। আর এ কারণে জিডি করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছে না ভুক্তভোগীরা।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী বংশালের বাসিন্দা রোহান হোসেন প্রিন্স বিবার্তাকে বলেন,  গত ৫ ফ্রেব্রুয়ারি তার স্মাট ফোন, সার্টিফিকেট বংশাল মোড় থেকে ছিনতাই হয়। আর এ ঘটনায় বংশাল থানায় জিডি করা হলেও পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগই করা হয়নি।
রাজধানীর  উত্তরখানের বাসিন্দা সুলতানা জামান বিবার্তাকে বলেন, আমার স্বামীর (আবুল কাশেম) মুদি দোকান ছিল। পাওনা টাকা চাওয়ায় আমার স্বামীকে দেখে নেয়ার হুমকি দেন এ এলাকার বাসিন্দা রবিউল হক। এ বিষয়ে উত্তরখান থানায় গত ১ নভেম্বর জিডি করেন। জিডি নম্বর ২০। এ বিষয়ে থানা থেকে কোন তদন্ত করা হয়নি। এর পর  গত ১০ ডিসেম্বর  রাতে আমার স্বামী রাজধানীর  উত্তরখানে রাস্তায় দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে খুন হন।
তিনি আরও বলেন,  জিডি নেয়ার পর যদি তদন্ত হতো তাহলে স্বামীকে মরতে হতো না।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আব্দুল্লাহ রনি বিশ্ববার্তাকে  বলেন, ল্যাপটপ ও মোবাইল হারানোর ঘটনায় ধানমণ্ডি থানায় জিডি করেছি। কিন্তু এক বছর পরও কিছুই জানাতে পারেনি পুলিশ।
আমার ডিডির ফলও পেয়েছেন কেউ কেউ। পল্টনের বাসিন্দা এবিএম জাহিদুল ইসলাম বিবার্তাকে বলেন, আমার বাসায় কাজের মেয়ে না বলে বাসা থেকে চলে যায়। আমি গত মার্চ মাসে পল্টন থানায় জিডি করি। জিডির ১৫ দিন পর মেয়েটিকে উদ্ধার করে পুলিশ।পুলিশ আন্তরিক হলে সব কিছুই সম্ভব।
এ বিষয়ে আইন বিশেষজ্ঞরা বলেন, মানুষের  জানমালের নিরাপত্তা চেয়ে প্রথম আইনি ধাপটিই হল জিডি। আর সেই জিডির তদন্ত করতে যদি পুলিশ গড়িমসি করে তাহলে নতুন অপরাধ সংগঠনের ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে।
সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মাহবুব  হোসেন বিশ্ববার্তাকে বলেন, জিডির তদন্ত না হলে অনেক ক্ষেত্রে হত্যাকাণ্ড কিংবা হামলার ঘটনাও ঘটতে পারে। যা ইতিমধ্যে আমরা দেখতে পেয়েছি। পুলিশের  উচিত গুরুত্ব অনুসারে জিডি নিষ্পত্তি করা।
তিনি আরও বলেন, হুমকিসহ বিভিন্ন বিষয়ে জিডি করা হলে পুলিশ মোবাইলের কললিস্ট পাঠায় ডিবিতে। সেখান থেকে হুমকি দাতাকে সনাক্ত করতে অনেক দিন সময় লাগে। আর এসময়ের মধ্যে হুমকিদাতা তার অবস্থান বদল করে ফেলেন। পুলিশ যদি সঙ্গে সঙ্গে মোবাইল কললিস্ট দিয়ে সনাক্ত করতে পারতো তাহলে অপরাধের সংখ্যা অনেক কমে আসবে।
Next
Newer Post
Previous
This is the last post.

Dear readers, after reading the Content please ask for advice and to provide constructive feedback Please Write Relevant Comment with Polite Language.Your comments inspired me to continue blogging. Your opinion much more valuable to me. Thank you.

-->